আমাদের রাহুল মামা – ৫

এখনও ১০ টা বাজে নি। খেয়ে সবাই সবার রুমে চলে গেছে। আমি জানি মামা আমার বিষয় নিয়েই এখন আলোচনা করবে । কম্পিউটার শুধু দুটি সংখ্যা দিয়ে কিভাবে সব কাজ করে? এত কিছু টাইপ করি, যোগ-বিয়োগ করি, গেম খেলি সবই কি ০,১ দিয়ে করা সম্ভব? মাথার মধ্যে নতুন নতুন প্রশ্ন আসছে। না, বসে না থেকে মামার কাছে চলে যাই।

৫ মিনিট আগেই মামার ঘরে চলে আসলাম, কিন্তু এসে দেখি আমার আগে আপু এসে বসে আছে।

% আয়, আয়, তোর জন্যই অপেক্ষা করছি।

* মহামান্য জনাব ইমু আপনি আসেন, আসন গ্রহন করুন। আমরা আপনার সদয় উপস্থিতি কামনা করছি।

অবস্থা খুব একটা ভালো না, নিশ্চয় কোন ঝামেলা আছে।

# আরে কি শুরু করলে তোমরা ? আমি আবার কি করলাম ।

* খাবার টেবিলে তো অনেক পট পট করেছেন কিন্তু কে তোকে আম, জাম বুঝিয়েছে সেটা তো বললি না।

ও বুঝেছি, যেমনটা ভেবেছিলাম ততটা খারাপ না। কাজ করে সবাই ক্রেডিট পেতে চায়।  আপুর কথা বলিনি তাই আপুর মন খারাপ।

# আহা, মনে ছিল না , আমি এক্ষণই বলে আসছি।

% আরে বলতে হবে না, বস বস-

আমি এক দৌড়ে আম্মুকে বলে আসলাম, “আপু আমাকে প্রোগ্রামিং শিখতে অনেক সাহায্য করেছে”। আমার কথা শুনে আম্মু হা করে রইল। মনে হয়, হঠাৎ কেন এসব বলছি বুঝতে পারে নি। যাই হোক আমি বলে আবার এক দৌড়ে মামার ঘরে চলে আসলাম।

% বস, তুই আসতে আসতে আমরা ঠিক করে ফেলেছি এখন আমরা কি নিয়ে কথা বলব। আর তা হল, কম্পিউটার ০,১ দিয়ে কিভাবে এত কাজ করে?

মামা আমার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে ইশারা দিলেন, মানে উনি সব ম্যানেজ করে ফেলেছে।

* মামা, আমারও মাঝে মাঝে অবাক লাগে। শুধু ২ টি সংখ্যা না নিয়ে বেশি নিলে তো আরো ভালোভাবে কাজ করা যেত। তাহলে কেন মাত্র ২ টি দিয়ে কাজ করে ?

% ভালো প্রশ্ন। আমাদের এখন  পর্যন্ত যে প্রযুক্তি আছে তাতে দুইয়ের বেশি সম্ভব না। তবে কাজ চলছে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং তার মধ্যে একটা। আর যদি সেটা হয়, তাহলে আমাদেরকে আবার সব কিছু নতুন করে শিখতে হবে ।

* সর্বনাশ, তাহলে এতোকিছু শিখে লাভ কি ?

# লাভ আছে, মাঝখান থেকে তো শিখে লাভ নেই। বাইনারির জায়গায় টাইনারী (তিন) আসলে আগে শিখতে হবে বাইনারি কিভাবে কাজ করত।

* আচ্ছা ঠিক আছে, বুঝলাম। এখন তাহলে জ্ঞান দাও, কি আর করা !

# মামা, আমারা A, B, C, D টাইপ করলে কম্পিউটার বুঝে কিভাবে কোনটা কি ?

% বুঝে কিন্তু এর জন্য আমাদের মত কম্পিউটারকেও কিন্তু বিভিন্ন অক্ষর শিখতে হয়। আমরা যেমন ছোটবেলায় অ,আ,A,B,C শিখেছি এবং এখন পর্যন্ত মনে রেখেছি তেমনি কম্পিউটারকেও শিখতে এবং মনে রাখতে হয়। সাধারণত আমাদের কম্পিউটারে কি-বোর্ডে ১০০ টার মত কিওয়ার্ড (আমরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করি যেগুল চাপ দিয়ে) থাকে।এই “কি” বা সুইচ গুলো দিয়েই আমরা কম্পিউটারে লিখি এবং অন্যান্য কাজ করি।  এখন প্রশ্ন হল কোন “কি” চাপলে কি কাজ করবে ? আর এসব কিছু সে কিভাবে মনে রাখে?

আসলে পৃথিবীর সব কম্পিউটারকে শুরুতেই কিছু শিখিয়ে দেওয়া হয় আর তার মধ্যে আগে থেকেই কিছু তথ্য দেয়া থাকে, যার সাহায্যে সে এই অক্ষর গুলো চিনতে পারে। একে বলা হয় ASCII কোড, এর পূর্ণরূপ হল American Standard Code for Information Interchange। এর সাহায্য সর্বমোট ১২৮টি বর্ণ প্রকাশ করা সম্ভব। অ্যাস্‌কি কোডে ০ থেকে ৩১ পর্যন্ত এবং ১২৭ এই সংখ্যাগুলো ব্যবহৃত হয় নিয়ন্ত্রণ সংকেত হিসেবে। অবশিষ্ট ৩২ থেকে ১২৬ পর্যন্ত সংখ্যাগুলো ব্যবহৃত হয় ছাপার যোগ্য বর্ণ সমূহের জন্য।
এই ১২৮টি বর্ণ ক্রমান্বয়ে সাজানো থাকে। এই ক্রমিক নাম্বারগুলোকে বাইনারি সংখ্যায় (০’ এবং ‘১’ ) রূপান্তর করে তারপর কম্পিউটারকে দেয়া হয়।
যখন আমরা A চাপি, তখন কম্পিউটার পায় ৬৫ এর বাইনারি, B  চাপলে ৬৬ এর বাইনারি আবার যখন আমরা a চাপি তখন পায় ৯৭ এর বাইনারি এই ছবিতে সব আছে-

এরপর মামা আমাদেরকে ইন্টারনেট থেকে কিছু ছবি দেখাল।

ছবিঃ  2 আসকি কোডের তালিকা

ছবিঃ  3 বাইনারী বা ডেসিমেলের মাধ্যমে আসকি কোডের প্রকাশ

* মামা, মাত্র ১২৮ টি ? কিন্তু এখানে তো ইংরেজী ছাড়া আর কিছু নেই। কিন্তু আরও অনেক ভাষা আছে তো?

% হুম আছে। আর তার জন্য আছে ইউনিকোড! ইউনিকোড পৃথিবীর প্রতিটি ভাষার প্রতিটি অক্ষরের জন্য একটি একক সংখ্যা বরাদ্দ করেছে, সেটা যে প্ল‍্যাটফর্মের জন্যই হোক, যে প্রোগ্রামের জন্যই হোক, আর যে ভাষার জন্যই হোক। অনেক অপারেটিং সিস্টেমে, নতুন সব ইন্টারনেট ব্রাউজারে এবং মোটামোটি সব সফটওয়্যারই এখন ইউনিকোড সমর্থন করে।

# সবই বুঝলাম, কিন্তু …

% সব বুঝলে আবার কিন্তু কেন ??

# এই যে মামা, তুমি বল ৬৫ এর বাইনারি কিন্তু কম্পিউটার কি সেটা বুঝবে ?

% হা হা… আসলে কম্পিউটার ৬৫ চাপলে ১০০০০০১ পায় , ৬৬ এর জন্য ১০০০০১০ আবার ৯৭ এর জন্য ১১০০০০১।

৬৫ কে বাইনারি তে কনভার্ট করলে আমরা ১০০০০০১, কিভাবে পাব সেটাও সহজ, ২ দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগ শেষে থাকে সেগুলো শেষ থেকে লিখলে আমরা তার বাইনারি পেয়ে যাব। কিন্তু আমি একটা সহজ পদ্ধতি জানি । দেখ-

এর পর মামা, স্কেচবুকে আঁকাআঁকি শুরু করল-

৬৪৩২১৬ফলাফল
 
৬৪৬৫

এখানে আমরা প্রথমে ১ থেকে শুরু করে ২ এর গুনিতক গুলো লিখেছি, ডান থেকে বাম দিকে। এরপর আমাদের কাঙ্ক্ষিত সংখ্যা পেতে সবচেয়ে বড় যে সংখ্যা নেয়া যায় (বাম থেকে শুরু করে) সেখানে ১ আর বাকিগুলো ০ দিব। তাহলেই পেয়ে যাব আমাদের বাইনারি । ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য যেখানে ১ আছে সে সংখ্যা যোগ করতে পারি।

আবার আমারা যদি ৯৭ এর জন্য করি –

৬৪৩২১৬ফলাফল
 
৬৪৩২৯৭

          তাহলে ৯৭ এর বাইনারি হল ১১০০০০১।

* মামা, এভাবে তো অনেক সহজ, কিন্তু ক্লাসে তো অনেক কঠিন করে করায়। গুন / ভাগ করে করে বের করতে হয়।

% ক্লাসে যেভাবে করায় সেটাই ঠিক, আমি যেভাবে দেখালাম সেটা হল শর্ট-কাট। হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য এভাবে করে দেখতে পারিস।

* সেটাও কাজে লাগবে। আর বাইনারি ছাড়াও আরো কি কি যেন আছে ?

# আরও আছে ??? কিন্তু সেগুলো দিয়ে কি হবে ??

% আছে আছে, দরকার আছে। আমরা যে নাম্বার সিস্টেম ব্যবহার করি তাকে বলে ডেসিমেল, ডেসি মানে হল ১০। এখানে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত ১০টি সংখ্যা আছে। আর আমরা তো জানিই বাইনারি তে আছে ২ টি সংখ্যা ০,১।

এছাড়াও আছে অক্টাল, হেক্সাডেসিমেল। এগুলো আমাদের সুবিধার জন্য আমরা ব্যবহার করি। অক্টালে আছে ০ থেকে ৭ পর্যন্ত ৮ টি সংখ্যা আর  হেক্সাডেসিমেলে আছে ১৬ টি সংখ্যা ০ থেকে ৯ এর পর A থেকে F।

* কিন্তু এগুলো আমাদের কি কাজে লাগে ?

% বাইনারি নিয়ে যে কাজ করা হয় তা আরো কম সময়ে করার জন্য আমরা অক্টাল, হেক্সাডেসিমেল ব্যবহার করি। অক্টাল ব্যবহার করে একসাথে ৮ টি করে বাইনারি সংখ্যা নিয়ে যে কাজ করতে হবে তার সমান কাজ করা যায়। 

* এগুলো শেখা কি আমাদের খুব জরুরি?

% না তেমন না , তবে ক্লাসে পড়ালে তো পড়তে হবে। আর কম্পিউটার সায়েন্স পড়লে অবশ্যই পড়তে হবে ।

# আচ্ছা মামা, আমরা যেটা ব্যবহার করি সেটা তো ডেসিমেল।

% হুম ঠিক তাই।

# আমাদের যেমন যোগ-বিয়োগ শিখতে হয়। কম্পিউটারকেও কি এগুলো শিখতে হয়?

% প্রশ্ন খুব কঠিন না, তবে উত্তরটা কিন্তু মজার।

* বুঝলাম না –

% হা হা, আমি তো এখনো বলি নাই।আমরা চাইলে বাইনারি এর যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ শিখতে পারি। কিন্তু মজার ব্যাপার হল কম্পিউটার শুধু যোগ করতে পারে। সে বিয়োগ, গুণ, ভাগ করতে পারে না ।

* কি বল মামা, এত বড় কম্পিউটার বিয়োগ করতে পারে না ।

% না , পারে না ।

#  গুণ, ভাগও পারে না ?

% না পারে না।

* তাহলে আমরা যদি বিয়োগ করতে বলি তাহলে সে বিয়োগ করে কিভাবে?

% যোগ করে বিয়োগ করে।

# মামা, তোমার আগের কথায় মজা পাই নি, কিন্তু এখন মজা পাচ্ছি। কি বললে? যোগ করে বিয়োগ করে ??? সেটা আবার কিরকম ?

% সেটা বাইনারি এর বিয়োগ থেকে অনেক সহজ। দেখাব ??

# কেন নয় মামা, যোগ করে বিয়োগ করা যায়! সেটা না দেখলে তো রাতে ঘুম আসবে না আমার।

% ঠিক আছে ।

মামা আবার স্কেচবুকে লিখছে আর আমরা আমাদের মোবাইলে দেখছি-

৯ এর বাইনারি  ১০০১ 
২ এর বাইনারি– ০০১০ 
২ এর কমপ্লিমেন্ট  ১১০১যে সংখ্যাটি বিয়োগ করতে হবে তার কমপ্লিমেন্ট বের করতে হবে, ০ থাকলে ১ হবে আর ১ থাকলে ০ হবে। 
এখন ৯ সাথে ২ এর কমপ্লিমেন্ট যোগ করতে হবে।
  এরপর আবার ১ যোগ করতে হবে ।  
  ১০০১
 ১১০
_________
 ১০১১০      ১
________
১০১১১
এখন বামে যদি অতিরিক্ত ১ থাকে তাহলে ঐ ১ বাদ দিয়ে যা পাব তাই আমাদের উত্তর।
আর যদি বামে ১ না থাকে তাহলে যোগ করার পর যা পেলাম তাকে আবার কমপ্লিমেন্ট করতে হবে, এর যা পার সেটা আমাদের উত্তর কিন্তু এক্ষেত্র আমাদের উত্তরটি হল নেগেটিভ সংখ্যা।
  ৯  
– ২  
_____
১১১ তাহলে আমাদের বিয়োগ ফল হল ১১১।  

* তাই তো মামা, উত্তর তো ঠিক আছে। ওয়াও!

# মজার তো যোগ করে বিয়োগ।

% আমরা কিন্তু ডেসিমেলের জন্য এভাবে করতে পারি, তোদের বইতে থাকতে পারে।

* আচ্ছা। কিন্তু মামা, এটাতো গেল বিয়োগ। গুণ, ভাগ করে কিভাবে ?

% হা হা। এটা তো আরো মজার। গুণ করে বার বার যোগ করে।

# কিভাবে ? আবার উল্টা-পাল্টা করতে হবে ?

% না, এবার আর উল্টাপাল্টা করতে হবে না। মনে কর, আমাদের  ১৫ কে ৩ দিয়ে গুণ করলে কত হয় বের করতে হবে।

# মামা, উত্তর ৪৫। দেখি তুমি কিভাবে কর?

% তুই কিভাবে বের করলি?

# মামা, ১৭ এর নামতা পর্যন্ত মুখস্থ করা আছে। এরপর বল কোনটা বলব, কম্পিউটার না পারলে কি হবে ,আমি তো পারি।

% হা হা…! শুধু শুধু অনেক কষ্ট করেছিস। ভালো করে যোগটা শিখলে আর মুখস্থ করা লাগত না। তিনবার ১৫ যোগ কর। ১৫+১৫+১৫। কত হয়?

# সর্বনাশ! মামা যোগ করলে তো ৪৫ হয়!

% এখন ২০,২৫,৩০ এর নামতা পারবি ?

# হা হা মামা কি যে  বল না, ১৫০,২০০ এর পারব  হা হা…।

* মামা, বিয়োগ করে যোগ করে, গুণ করে যোগ করে, কিন্তু ভাগ করে কিভাবে? এটাও কি যোগ করে ?

% হ্যা, এটাও যোগ করে, কারণ যোগ ছাড়া তো সে কিছু পারে না ।

* কিভাবে ?

% বার বার বিয়োগ করে, আর বিয়োগ করে যোগ করে। মনে কর, ২০ কে ৩ দিয়ে ভাগ করতে হবে। তাহলে ২০ থেকে তিন বিয়োগ করতে থাকবে, ছয় বার বিয়োগ করার পর ২ বাকি থাকবে অর্থাৎ আর বিয়োগ করা যাবে না।

তাহলে আমাদের ভাগফল ৬ আর ভাগশেষ ২।

* ওয়াও। মামা আমার তো মনে হয়, গুণ আর ভাগ নতুন করে শিখতে হবে।

% না দরকার নেই, সহজ হবে কিন্তু সময় বেশি লাগবে। আমরা যেভাবে করি সেটা কঠিন কিন্তু সময় কম লাগে।

* তাও ঠিক।

# কিন্তু মামা, নামতা আর মুখস্থ করছি না আমি, তাড়াতাড়ি যোগ করে বলে ফেলব।

% তা করা যেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে যোগটা ভালোভাবে করতে হবে। 

* মামা, আর কিছু করে না ???

% করে কিন্তু আজ আর না। কয়টা বাজে ???

# হায় হায়, মামা ১২ টা বাজে। আম্মু দেখলে আমাদের খবর আছে।

% কাল তাহলে আমরা ঘুরতে বের হব।

* মামা চল চিপফুডে যাই। অনেকদিন হলো গিয়ে খাই না। ওদের ঐখানে গিয়ে খেলে স্কেচকার্ড দেয়। আমার আর ৭ পয়েন্ট লাগবে। তাহলেই আমি “১০০” পয়েন্ট দিয়ে “ছক্কা” অফারটি নিতে পারব।

% ছক্কা দিয়ে কি হবে ??

* আমি আমার পছন্দমত ছয়টি খাবারের লিস্ট করব, এরপর লুডুর ছক্কা দিবে আমাকে। আমি ভালভাবে নেড়ে ছক্কাটি ওদের ঐখানে কাগজের মধ্যে একটি গোল ঘর আছে তার মধ্যে ফেলতে হবে। যত নাম্বার উঠবে সেটি হলো আমার পুরস্কার।

% চমৎকার! আর যদি ছক্কা ঘরের বাইরে পড়ে তাহলে ?

* হতাশ হবার কিছু নেই। তাহলে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই পাব, হি হি হি …

% বেশ তাহলে আমরা কাল চিপফুডে যাব, কিন্তু তার আগে সকালে কিছু পরিকল্পনা করতে হবে। এখন যা ঘুমা, সকালে দেখা হবে ।

আপু তার রুমে চলে গেল। আমার মাথায় হঠাৎ এক প্রশ্নের উদয় হল-

# আচ্ছা মামা, আমরা কেনো ঘুমাই? না ঘুমালে তো অনেক পড়াশুনা করতে পারতাম, তুমি অনেক কাজ করতে পারতে।

% হা হা হা মজার প্রশ্ন! না ঘুমালে তো কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে মারা যেতাম। সারাদিন তোর হাত, পা, পেটের ভিতরের যন্ত্রপাতি এতো কাজ করে তাদের কি বিশ্রামের প্রয়োজন নেই ?

# তা ঠিক, কিন্তু আমি না ঘুমালে আমার হাত, পা তো আর আমাকে ঘুম পাড়াতে পারবে না। আমি অর্ধেক কাজ ডান হাতে আর বাকি অর্ধেক কাজ তো বাম হাতে করেও তাদেরকে বিশ্রাম দিতে পারি।

% হা হা তাই নাকি ?? ঠিক আছে কাল দেখা যাবে। আর ঘুমের নিয়ন্ত্রণ কিন্তু আমাদের হাতে নেই। এটা আমাদের দেহ নিয়ন্ত্রণ করে। এক ধরনের এনজাইম আছে তারা আমাদের দেহকে দুর্বল করে আমাদেরকে ঘুমাতে বাধ্য করে।

# যদি কাজ না করে সারাদিন শুয়ে থাকি ???

% তাহলেও আমাদেরকে ঘুমাতে হবে? কারণ শুয়ে থাকলেও তো আমাদের মস্তিষ্ক কাজ করবে। আর সারাদিন আমাদের মস্তিষ্ক যা শিখে বা দেখে, সেসব স্মৃতিকে গুরুত্ব সহকারে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখার কাজ করে যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি তখন।

# তার মানে আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের মস্তিষ্ক বিশ্রাম নেয় না ??

% না নেয় না, কাজ করে। ডিফ্রেগমেন্টেশনের কথা মনে আছে ?

# জ্বী মামা, তাড়াতাড়ি খুঁজে বের করার জন্য আগে থেকে সব সাজিয়ে রাখে।

% ঠিক তাই, আমাদের মস্তিষ্কও তাই করে,যখন আমরা ঘুমাই তখন।

# তাহলে কি বেশি বেশি ঘুমালে আমাদের পড়া মনে থাকবে ????

% এটা নির্ভর করে মন দিয়ে পড়ছিস কিনা, কিন্তু বাচ্চারা কিন্তু এই কারণেই বেশি ঘুমায়, কারণ তারা বেশি শিখে।

# ওয়াও মামা, ঘুম তো তাহলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে যাই, ঘুমাতে যাই।

এরপর আমার রুমে গিয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম, কাল সকালে আমরা মামার সাথে চিপফুডে যাব।

কিছু ভিডিও- যা এই গল্পের বিষয় বস্তু বুঝতে সাহায্য করবে –

আরো গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published.