শিক্ষক মামা – ৪

১০ টার দিকে মামার ঘরে চলে গেলাম। মামা কি নিয়ে যেন অনেক পড়াশোনা করে। আমাকে দেখেই ভিতরে যেতে ডাকলো-

% কি ১০ টা বেজে গেছে? আয় ভিতরে আয়।

# জ্বী মামা, ঠিক ১০টা বাজে।

% হুম, তো ঘটনাটা কি ?

# মামা, ঘটনা হল তুহিন-

% হা হা হা আবার কি করেছে?

# তুমি তো ওর সাথে দেখা করতে চেয়েছিলে। আমি তোমার কথা বলেও ছিলাম। কাল দেখা করার কথা বলতেই, সে বলল দেখা করা যাবে না। কিন্তু এর ১০ মিনিট পরেইএকটা ম্যাসেজ দিল। লেখা important, কিন্তু এর পরের লাইন আর বুঝি না!

% হুম, বুঝলাম। দেখি কি পাঠিয়েছে-

# এই দেখো-

তুহিনের ম্যাসেজ

important
rjjy%rj%fy%r1%h%ur1%xzs

% দেখে তো মনে হচ্ছে এনক্রিপ্টেড ম্যাসেজ। মনে হয় গুরুত্বপুর্ন কিছু। আর সে চাচ্ছে না এটা অন্য কেউ জানুক।

# কিন্তু মামা, আমরা তো এর আগেও এমন ম্যাসেজ দিয়েছি। আমরা বিভিন্ন কোড ব্যবহার করতাম। যেমন নিউমার্কেট কে “t” আর নীলক্ষেত কে “k”। কিন্তু এই রকম উল্টা পাল্টা কিছু লিখি নাই। কিছুই বুঝতে পারছি না, কি করা উচিত।

মামা বার বার ম্যাসেজটি পড়ছে, একবার চশমা পড়ে আবার খুলে ফেলে। আর আমি সমানে বক বক করে যাচ্ছি, মনে হচ্ছে মামা আমার কোন কথাই শুনছে না। হঠাৎ মামার মুখে হাসি ফুটে উঠল।

% পেয়েছি, মনে হয় কাজ হবে। ইমিকে ডাক ওকে দিয়েই কাজটা করাই।

# কিন্তু মামা আপু যদি বুঝে ফেলে?

% আরে ইমি কি জানে নাকি এটা তুহিন দিয়েছে। আর পুরো ম্যাসেজ না দিয়ে প্রথম অংশ দিব ওকে। বাকিটা আমরা বের করব। ইমিকে দিয়ে আমরা একটা প্রোগ্রাম বানিয়ে নিব, এতে আমাদের কাজ সহজ হবে।

# মামা, আপু যদি না পারে?! আমাদের তো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা জানা দরকার যে সে কি বলতে চেয়েছে।

% হুম, তা ঠিক। আমরা ওকে ১৫ মিনিট সময় দিব। আর আমি তো আছি। তুই ডেকে নিয়ে আয়।

কি আর করা, আমি আপুকে ডেকে নিয়ে আসলাম

* মামা ডেকেছ নাকি?

% হুম তোর এখন প্রোগ্রামিং এর পরিক্ষা নিব।

* মানে!! কি বলছ? এখন ? এত রাতে ? কাল দেই?

# না এখনই দিতে হবে

* তুই চুপ কর, সব তোর চালাকি। আমাকে বিপদে ফেলার ধান্দা।

% আরে না, আমিই তোকে ডেকেছি। খুব সহজ প্রবলেম, সময় ১৫ মিনিট।

* আচ্ছা বল, দেখি চেষ্টা করে। আর তুমি তো আছোই।

% ঠিক, মন দিয়ে শোন-ASCII কোডের কথা মনে আছে ? প্রতিটি অক্ষরের জন্য একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকে যে?

* হুম মনে আছে। এখন কি করতে হবে ?

% খুব সহজ, আমরা যদি পরের অক্ষর দেখতে চাই তাহলে কি করতে হবে? যেমন ইনপুটে “a” দিলে আউটপুটে “b” পাব। আবার ২ অক্ষর পরেরটা বললে “c” দেখাবে

* ও মামা এই কথা ? আমি এখনই করে দিচ্ছি-

এরপর আপু তার মোবাইল বের করে ৩ মিনিটেই এটা করে ফেলল।

          * এই নাও, দেখ হয়েছে কিনা?

#include <stdio.h>
int main()
{
    char testChar;
    int n;
    printf(“Enter a Charecter: “);
    scanf(“%c”,&testChar);
    printf(“Number of position to be shifted: “);
    scanf(“%d”,&n);
 
    printf(“Shifted charecter: %c”, testChar+n);
 
    return 0;
}

মামা কয়েকবার দেখে –

% হুম, মনে হচ্ছে ঠিক মত কাজ করছে। বোনাস হিসাবে রিপুতে ১০ পয়েন্ট দিয়ে দিব-

# কিন্তু মামা, এটা দিয়ে আমরা কি করব?

* মামা, কোন সমস্যা? আর কিছু করতে হবে?

# মামা, আমি তো কিছুই বুঝলাম না, এই প্রোগ্রাম দিয়ে আমরা কি করব? আর এটা তো তুমিই করতে পারতে!

% এটা দিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট কমে যাবে। দেখ কি করি। আর আমি করতে পারতাম, কিন্তু ইমি কেমন প্রোগ্রামিং শিখেছে তার একটা পরীক্ষা নিয়ে নিলাম।

*আমি কি পাশ করেছি ?

% হুম, তবে আমাদের মনে হয় এই প্রোগ্রামটির আরো উন্নতি করতে হবে।

# মামা, কিভাবে কি হবে কিছুই বুঝতে পারছি না! আমরা কিন্তু এখনও আগের জায়গায়ই আছি। এখনও ধাধার উত্তর বের করতে পারি নি।

% ও তাই তো, নে কাজ শুরু কর। দেখে যা মনে হচ্ছে এখানে character shift ব্যবহার করা হয়েছে। এখন আমাদেরকে এর উল্টো কাজ করতে হবে।

* তার মানে, এখন যোগ না করে বিয়োগ করতে হবে ?

          printf(“BackShifted charecter: %c”, testChar – n);

% ঠিক তাই।

# কিন্তু মামা, এখানে যদি শেষের দিকের অক্ষর থাকে তাহলে ?

% তাহলে ঠিক মত কাজ করবে না, তবে আপাতত এটা দিয়ে কাজ কর। প্রথমে বের কর কোন অক্ষরটি বেশি আছে, সেটা সম্ভবত “space” আর এরপর বেশি থাকে “vowel”।

* আর মামা, আমাদের সবচেয়ে বেশি আছে “%” আর এর ASCII কোড হল ৩৭, আর space এর ASCII কোড হল ৩২। তার মানে ৫ অক্ষর করে সরানো হয়েছে। এরপর চারবার  আছে “r”।

% এখন আমাদের পিছাতে হবে। আর আমাদের এই ধারণা ঠিক আছে কিনা তা যাচাই এর জন্য ১/২ অক্ষরের যেকোন শব্দ নিয়ে ৫ ঘর পিছিয়ে দেখতে হবে এটা কোন অর্থবোধক শব্দ হয় কিনা।                  

তুহিনের ম্যাসেজ

important
rjjy%rj%fy%r1%h%ur1%xzs

কয়েকবার চেষ্টা করার পর মনে হয় আমি কিছুটা বের করতে পেরেছি, কিন্তু বুঝা যাচ্ছে না।

# মামা, এটা মনে হচ্ছে পড়া যাচ্ছে,“fy” কে ৫ ঘর পেছালে at হয়।

* মামা, এভাবে বার বার না করে পুরোটা একবারে করা যায় না ?

% হুম, যায় তার জন্য আমাদের আরো কিছু প্রোগ্রামিং শিখতে হবে যেমন loop, array, string। তো ইমি আমাদেরকে তাহলে এইগুলো শিখতে হবে। আজ তোর ছুটি। ও ভালো কথা কাল কিন্তু আমরা রমনা পার্কে যাব, সকাল ৬ টায়।

* কোথায় একটু শান্তিতে ঘুমাবো, যাই তাড়াতাড়ি শুয়ে পরি।

% Good night।

এর পর আপু চলে গেল। এখন আমি আর মামা তুহিনের ম্যাসেজ পড়তে শুরু করলাম-

% আর দেখি কি বের করলি

# এই যে এটা-

meet me at m, c pm,sun

% আচ্ছা তোদের না কি যেন একটা লিস্ট আছে?

# ও মামা তাই তো!

আমি আমাদের লিস্ট খুজে বের করলাম-

# মামা, আমাদের লিস্ট অনুযায়ীmমানে হল National museum মানে জাতীয় জাদুঘর।

% আর c pm বলতে বিকাল ৩ টা। যেহেতু c হল তৃতীয় অক্ষর। তার মানে সে আমাদের কে বিকাল ৩টায় জাতীয় যাদুঘরে দেখা করতে বলছে। আরsun দিয়ে রবিবার বুঝাতে চেয়েছে। এই ম্যাসেজ পড়ে যা মনে হচ্ছে সে চায় না এটা অন্য কেউ জানুক ।

# হুম, এত কষ্ট করে এই প্রথম কোন ম্যাসেজ পড়তে হল। মামা তোমাকে ধ্যনবাদ। তাহলে রবিবার তুহিনের সাথে দেখা হচ্ছে। আর কাল তাহলে রমনা পার্কে যাচ্ছি।

% আমাদের তো তুহিনের এনক্রিপ্ট (Encrypt)করা ম্যাসেজ ডিক্রিপ্ট (decrypt) করা হয়ে গেল। এই এনক্রিপশন বা সাঙ্কেতিকীকরণ কিন্তু তোর সাইবার (cyber)নিরাপত্তার জন্যও কাজে লাগবে।  আচ্ছা ইমু তোরা এইরকম ডাটা ক‌ম্প্রেশন (Data compression) ব্যবহার করিস কেন ?

# মানে ?

% মানে হল, এইযে m দিয়ে জাতীয় জাদুঘর।

# ও এই তাড়াতাড়ি লিখা যায়, সবাই বুঝবে না।

% হা হা, মজার কথা হল, কম্পিউটারের ডাটা ক‌ম্প্রেশন ও একই ভাবে কাজ করে। সব বড় শব্দগুলোকে ছোট অক্ষর দিয়ে প্রতিস্থাপন করে। তারপর পাঠিয়ে দেয়। আর তোর লিস্টের মত তারও একটা লিস্ট থাকে, যে এই ক‌ম্প্রেশড বা সংকচিত তথ্য পায় সে আবার লিস্ট দেখে সব ঠিক করে নেয়। যেভাবে তোরা কাজ করিস আর কি।

# মজার তো, আমরা কিছু না জেনেই ডাটা ক‌ম্প্রেশন, এনক্রিপশ কত কি ব্যবহার করছি!

% ও ভালো কথা, তোর কাছে তো অনেক পুরাতন কলম আছে, কাল সাথে করে ১০ টি কলম নিয়ে বের হবি।

# স্কুল ছুটি কোথায় শান্তিতে একটু ঘুমাব! আর কলম দিয়ে কি হবে ?

% হা হা হা, সকালেই বের হব, সকালে ঘুম থেকে উঠা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আর সকালে আমরা ১০ বার চক্কর দিব, কত বার ঘুরব তা হিসাব রাখার জন্য কলম গুলো কাজে লাগবে। তাহলে যা এখন ভালো করে ঘুমিয়ে নে।

শনিবার

মামার ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙল, ঘড়িতে ভোর ৫ টা। আমি তো ভেবেছিলাম ৬ টায় উঠতে হবে, এলার্ম দেয়া ছিল ৬ টায়, কিন্তু ৬ টায় যে আমাদের বের হবার কথা সেটা তো মাথায়ই ছিল না। ভাগ্যিস মামা সময় মত ডেকেছে।

সকল প্রকার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে সারে ৫টার কিছু পরে আপু আর মামার সাথে খাবার টেবিলে দেখা।

% তাড়াতাড়ি হালকা কিছু খেয়ে নে। ১০ বার চক্কর দিতে হবে কিন্তু-

* কিন্তু মামা, আমি তো শুনেছি রমনা পার্ক অনেক বড়, আমার তো মনে আমি ১ বারই ঠিক মত ঘুরতে পারব না !

# মামা, কি বিপদে ফেলছ? আজ কিন্তু আবার শনিবার। আজ আমি শেষ! একটু কম ঘুরলে হয় না ?

% আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে প্রথমে আমরা এক বার ঘুরে দেখি, তারপর সিদ্ধান্ত নেই আজ আমরা কত বার ঘুরব।

* এটা ঠিক আছে, আশা করি একবার অন্তত ঘুরে শেষ করতে পারব।

# মামা, কলম কি নিতে হবে ??

% হ্যা, এটাই তো আসল। শোন-প্রথমে সবগুলো কলম তোর বাম পকেটে রেখে দিবি। এরপর আমরা ঠিক করব আজ কত বার ঘুরব, প্রতিবার ঘোরার সময় একটি করে কলম বাম পকেট থেকে ডান পকেটে রেখে দিবি। যতবার ঘোরার কথা ঠিক ততগুলো কলম তোর ডান পকেটে রাখা হলে আজকের মত আমাদের ঘোরা সমাপ্ত ঘোষনা করে বাসায় চলে আসব।

* মামা, এই সবের দরকার কি ? যাব আর ঘুরব, ক্লান্ত হলে চলে আসব।

% হা হা। দরকার আছে, সময় হলে বুঝতে পারবি।

ঠিক ৬ টায় আমরা বাসা থেকে বের হলাম। আজ আমরা বাসে যাব। অটোকার থেকে বাস সাশ্রয়ী এবং তুলনামুলকভাবে সময়ও কম লাগে। কিন্তু বাসের জন্য আমাদেরকে একটু হাটতে হবে। ঢাকাতে এখন ৬ টি ভিন্ন ভিন্ন রঙের বাস চলে। দূরের গন্তব্য হলে মাঝে মাঝে বাস পরিবর্তনের দরকার হয়। আর এখন তো আগের থেকে আরো ভালো সেবা পাওয়া যাচ্ছে। কোন কারনে যাত্রী বেড়ে গেলে, সেখানে অল্প সময়ের মধ্যে খালি বাস চলে আসে। আবার মোবাইলে বাসের টিকেট কাটা যায়, আবার বাসে আসন খালি আছে কিনা তাও দেখা যায়। এর ফলে গনপরিবহনের মধ্যে  বাস এখন খুব জনপ্রিয়।

ভেবেছিলাম এত সকালে আমরা ছাড়া রাস্তায় মনে হয় আর কেউ থাকবে না, কিন্তু এখন দেখছি রাস্তায় প্রচুর মানুষ, মামাকে বলে অনলাইনের বাসের টিকেট কিনে ফেললাম। ১০/১১ মিনিটের মধ্যে আমরা রমনা পার্কে চলে আসলাম। মামা আবার আমাকে কি কি করতে হবে বুঝিয়ে দিল।

বাস থেকে নেমে আমরা পার্কে ভিতরে প্রবেশ করলাম-

% তো এখন আমরা আমাদের প্ল্যান আনুযায়ী এক বার ঘুরে তারপর সিদ্ধান্ত নিব আজ কত বার ঘুরব। আর একটি কথা যতদুর জানি পার্কের উত্তর দিকে একটি চায়ের দোকান আছে। আমরা এই গেট থেকে শুরু করে চায়ের দোকান হয়ে আবার গেটে ফিরে আসলে এক বার ঘোরা হবে। 

# মামা, আমি কি ডান পকেটে কলম রাখব ?

% না, এখন না, আগে আমরা ঘুরে আবার এখানে আসলে তখন।

# ঠিক আছে, তাহলে শুরু করা যাক।

এর পর আমরা প্রথমে আস্তে আস্তে হাঁটলেও একটু পর জোড়ে হাটা শুরু করলাম।

* মামা, ইমু বলল তোমরা নাকি কাল বাসায় থাকবা না ? বিকালে নাকি তোমাদের বিশেষ কোন কাজ আছে ?

এই কথা শুনে মামা আমার দিকে অবাক হবার মত করে তাকালো! আমিও বুঝে গেলাম আপুকে বলা ঠিক হয়নি আমার।

% এই তো বিকালে একটু বের হব, আবার চলে আসব। তোর যাবার দরকার নেই, শুধু ঝামেলা।

* আমি তো যেতে চাই না, কিন্তু সোমবার আব্বু আসবে আর কাল তুমি ব্যস্ত তাহলে আমার প্রোগ্রামিং শেখার কি হবে?

% ও এই কথা, চিন্তা করিস না আজই সব শেষ হয়ে যাবে।

* কিভাবে কি? এখনো লুপ ঠিক মত বুঝি না, লুপের কথা মনে হলেই ইমুর মত আমার মাথা ঘুরে, এরপর আবার  Function,  Array, String আর হাতে সময় শুধু মাত্র আজকের দিন?

%  হা হা হা সব…… হবে, এখন ঘুরতে থাক, মানে হাটতে থাক।

যত বড় ভেবেছিলাম, তত বড় না, কিন্তু তারপরও আমরা ক্লান্ত। কারণ আমরা খুব কম হাটি, তাই একটু হাটাতেই সবার অবস্থা একদম খারাপ। যদিও মামা যে ক্লান্ত তা স্বীকার করছে না। ৭ মিনিটের একটু বেশি সময় লেগেছে আমাদের আবার গেটে ফিরে আস্তে। মাঝে একটি ছোট সেতু, এর পর চায়ের দোকান।

% কি? কেমন লাগলো? আর ইমু ডান পকেটে এখন কয়টি কলম আছে ?

# মামা, মাত্র একটি কলম। আর পার্ক বেশি বড় না, কিন্তু ক্লান্ত লাগছে।

* মামা আমারও ।

% কি বলিস? আমি তো ভেবেছি ১০ বার চক্কর দিব।

# মামা, মনে হয় সম্ভব না।

* মামা আমরা ১০ বার পারব না তবে আমার মনে হয় আর তিন বার দেয়া যেতে পারে।

% ঠিক আছে। তাহলে আমাদের লক্ষ্য ঠিক হয়ে গেল। আমরা মোট ৪ বার ঘুরব, তার মানে ইমুর পকেটে ৪টি কলম আসলেই আমাদের ঘুরা শেষ।

* মামা, আমি মনে হয় পারব না।

% আরে শুরু কর, পরেরটা পরে দেখা যাবে।

এরপর আমরা আবার হাটতে শুরু করলাম। প্রতিবার ঘুরা শেষে আমি একটি করে কলম ডান পকেটে রাখি। প্রতিবার ঘুরার পরি আপু জানতে চায় আমার পকেটে কয়টি কলম হল। আর এভাবে না গুনলে কত বার যে চক্কর দেয়া হত বলা মুশকিল, কারন কথা বলতে বলতে কখন যে আমাদের চারবার ঘোরা হয়ে গেছে আমরা টেরই পাই নি। যখন আমার ডান পকেটে ৪টি কলম হল, সাথে সাথে আমি বাকিদের জানালাম।

# মামা…, ডান পকেটে এখন ৪ টা হল। তার মানে আমার কাজ শেষ।

* মামা, চল বাসায় গিয়ে প্রোগ্রামিং নিয়ে বসতে হবে।

# কিন্তু মামা, এক কাজ করলে কেমন হয়?

% কি?

# এই একটু বিশ্রাম নিলাম, এর পর আবার চক্কর দেয়া শুরু করলাম। যেহেতু এখনও বাম পকেটে ৬ টি কলম বাকি

* অসম্ভব, আমি পারব না।

# হি হি, জানতাম আমি। তবে আমরা এক কাজ করলে কেমন হয়? প্রতিবার ঘুরে যদি ২ টি কলম বাম থেকে ডান পকেটে আনি তাহলে বেশি সময় লাগবে না।

% হা হা হা… নিজের সাথে নিজে চালাকি?

* ২টি না তিনটি করে, তাহলে আমাদের আর ২ বার ঘুরতে হবে। কিন্তু এর আগে একটু বিশ্রামের দরকার।

% ইমি, ইমুর চালাকিটা কিন্তু আমার ভালো লেগেছে। আর শুন বাসায় গিয়েই আমরা লুপ নিয়ে একটু গল্প করব ঠিক আছে ?

* ওকে মামা।

একটু বিশ্রাম নিয়ে আমরা আবার শুরু করলাম।

% ইমু এবার ডান পকেটের কি অবস্থা ?

# মামা, ডান পকেটে আগের ৪ টি কলম আছে।

% তাহলে আমাদের প্ল্যান হল, ডান পকেটে ৪ থেকে ১০ না হওয়া পর্যন্ত ঘুরব, কিন্তু প্রতি বার ৩টি করে কলম বাম থেকে দান পকেটে আসবে। তাই তো??

 * হুম, চল শুরু করি।

% ইমি, তাহলে আমাদের পার্কে ঘুরার জন্য তিনটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়, শুরু, শেষের শর্ত, আর কত করে বারবে। কি ঠিক আছে ??

* আরে মামা, কথা গুলো কেমন পরিচিত মনে হচ্ছে।

% হা হা হা, তাই নাকি। এখন বল আমি ঠিক বললাম কিনা ?

* হ্যা, এই তিনটি ছাড়া তো সম্ভব না।

% হুম, তাহলে তোর লুপ বুঝা শেষ!

# আগে তো আপুর মাথা ঘুরত, তোমার কথা শুনেতো এখন আমার মাথা ঘুরছে? আসলাম পার্কে ঘুরতে আর তুমি বলছ আপুকে লুপ বুঝানো শেষ?

* আরে তুই চুপ কর। মামা, সবই বুঝলাম কিন্তু একটু প্রোগ্রামিং করে দেখালে ভাল হত।

# ও তাইতো বলি, মামাতো এমনি এমনি কোন কাজ করে না। হঠাৎ কেন আমাদের পার্কে ঘুরতে নিয়ে আসলো। 

% হবে বাসায় গিয়ে সব হবে। এখন চক্কর দেয়া শুরু কর…

এরপর আমরা আবার শুরু করলাম– । আপুর একটু কষ্ট হলেও দুই বার চক্কর দিয়ে যখন আমার ডান পকেটে ১০ টি কলম হল তখন আমরা আজকের মত সমাপ্ত ঘোষণা করলাম। পার্কের পাশেই পাবলিক টয়লেট ছিল আমরা সেখানে হাতমুখ ধোয়ে একটু বিশ্রাম নিলাম। একটু হেটে যে বাস স্টপে যাব তার একদম কোন শক্তিই নাই তাই এবার অটোকারে করে বাসার দিকে রওনা হলাম।

ফিরার পথে কিভাবে পার্কে ঘুরতে হয় মামা বার বার আমাদেরকে বুঝাছিল। পার্কে কত বার ঘুরব তার হিসাব রাখতে আমাদেরকে তিনটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, ডান পকেটের কলম প্রথমে কয়টা থাকবে, প্রতিবার কয়টা করে যোগ হবে, আর কতগুলো কলম জমা হলে ঘোরা শেষ হবে। আর একটা বিষয়, প্রথমবার কিন্তু আমরা কোন শর্ত না জেনেই ঘোরা শুরু করেছিলাম। আর দ্বিতীয়বার কিন্তু আগে শর্ত ঠিক করে তারপর ঘুরা শুরু করেছি। মামা, যতই অন্য কথা বলার চেষ্টা করে আপু প্রোগ্রামিং বোঝানোর তাগাদা দেয়।

% আরে এত চিন্তা করছিস কেন? এইযে এত কষ্ট করে সকাল সকাল পার্কে চক্কর দিতে আসলাম সেটা তো তোর জন্যই।

* মানে কি ?

% মানে হল,  Loop কিভাবে কাজ করে সেটা বুঝানোর জন্য।

* হুম, তোমার এই চক্কর দেয়া যেমন কষ্টের আমার কাছে Loop ও তেমন কঠিন।

% হা হা হা… একটু পর  সব সহজ হয়ে যাবে। কত প্রকারের Loop আছে ?

* মামা, আমরা তো তিন ধরনের Loop ব্যবহার করেছি। do while loop, while loop, for loop।

% সাবাস, কিন্তু আমরা এই তিন ধরনের লুপকে দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। আমরা প্রথমে শর্ত না জেনে একবার ঘুরলাম, তারপর শর্ত অনুযায়ী আরো তিন বার মনে আছে ?

* হুম মনে আছে।

% যদি পার্কটি পছন্দ না হত, তাহলেও কিন্তু আমাদের একবার ঘুরতে হত। অর্থাৎ শর্ত মিথ্যা হলেও কম পক্ষে ঘুরতে হবে।এ ধরনের loop কে posttest loop বলে। আর do while loop এভাবে কাজ করে।
     আর পরের বার কিন্তু আমরা আগে থেকে শর্ত জেনে তারপর চক্কর দেয়া শুরু করেছি। যদি বেশি ক্লান্ত থাকতাম তাহলে কিন্তু প্রথমবারের মত একবার ঘুরতে হবে না ।  এ ধরনের loop কে pretest loop বলে। আমাদের while loop, for loop হল pretest loop এর উদাহরণ।
     আর সব ধরনের loop ঠিক মত কাজ করার জন্য তিনটি তথ্য লাগবে-

শুরু – initialization
শেষের শর্ত- condition
কত করে বাড়বে – increment

* ও তাই তো, আমি তো এত দিন ভাবতাম সব একই রকম, শুধু আলাদা করে তিন ধরনের শিখতে হচ্ছে।

# আচ্ছা মামা, loop কি সব সময় বাড়বেই?

% হা হা ভালো প্রশ্ন, না আমরা যেহেতু ডান পকেটের হিসাব করছি তাই বাড়ছে, কিন্তু বাম পকেটে কিন্তু কমছে, যখন কোড করব তখন এই বিষয়টা আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবি। 

* মামা, এখন কিন্তু মনে হচ্ছে সকালে পার্কে ঘোরাঘুরি করে ভালোই হয়েছে, হি হি হি…

কথা বলতে বলতে আমরা বাসায় পৌঁছে গেলাম। আপুকে এখন আর ক্লান্ত দেখাচ্ছে না। তবে সব চেয়ে বেশি ক্লান্ত হল মামা। আমার অবস্থাও বেশি ভালো না। বাসায় ঢুকতেই আম্মু সবার খোঁজ খবর নিল, কেউ কিছু খেতে চায় কিনা জানতে চাইল। কিন্তু কেউ কিছু খাবে না, সবাই যার যার ঘরে চলে গেল। ১০/১৫ মিনিট পরেই আপু আমার ঘরে হাজির।

* চল-

# কোথায়?

* মামার ঘরে

# এখন ?

* হুম, লুপ শিখতে হবে। তুই যেতে না চাইলে আমিই যাই। আজই সব শেষ করতে হবে। অনেক কিছু বাকি। সময় নষ্ট করা যাবে না।

# কিন্তু মামা তো মনে হয় ক্লান্ত।

* হুম, এখন ক্লান্ত, আর আগামীকাল থেকে থাকবে ব্যস্ত। তাই আর কোন উপায় নেই, তুই যাবি কিনা বল-

# হুম, চল। পার্কে ঘুরে কি লাভ হল খুব জানতে ইচ্ছে করছে। যদিও এইসব লুপ আমি খুব একটা বুঝি না।

* এত বুঝতে হবে না। এখন শুনে রাখ, পরে কাজে লাগবে-

# আচ্ছা চল—

আরো গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published.