শিক্ষক মামা – ৭

% হবে, তবে আমার মনে হয় String  নিয়ে হালকা ধারনা দিলেই তুই পারবি । আর যদিও এখন অনেক রাত হয়ে গেছে তারপরও আজই শেষ করে দেই। এরপর যদি কোন সমস্যা থাকে তুই কাল আমাকে জানাতে পারবি। আর তুই তো জানিসই কাল আমার আর ইমুর একটু কাজ আছে ।  আর বেশি সময়ও লাগবে না,  Array  এর সাথে অনেক মিল আছে।

* ঠিক আছে মামা, তুমি যা বলবে তাই হবে।

# মামা, তাহলে তোমার কালকের কথা মনে আছে ?? আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম!

% আমি ভুলি নাই, আর আমার ম্যাপে সব ঠিক করা থাকে, কবে কোথায় কি কাজ আমার। ভুলার কোন সুযোগ নাই।

* মামা, শুনেছি  String  এর নাকি অনেক কাজ ?

% হুম, String  এর জন্য আলাদা সি এর লাইব্রেরী ফাইল মানে, হেডার ফাইলও আছে,  string.h, তবে আমরা সব দেখব না ।

*বাঁচালে !

% শোন, স্ট্রিং (String)   হল এক ধরনের array যেখানে শুধু character (char) মানে অক্ষর রাখা যায়।

* আচ্ছা, তার মানে আমরা যদি array  ভালো করে বুঝি তাহলে স্ট্রিং বুঝতে সহজ হবে, তাই না ?

% ঠিক তাই। তবে স্ট্রিং এর জন্য বিশেষ কিছু সুবিধা আছে, যেমন এটা দেখ-

প্রোগ্রাম ৭.১

 প্রোগ্রামপ্রোগ্রামের আউটপুট









১০
১১
১২
১৩
১৪
১৫
#include <stdio.h>
 int main ()
{
  char name[10];
  int i;
  for (i=0; i<10; i++)
   {
     scanf(“%c”, &name[i] );
   }
  for (i=0; i<10; i++)
   {
     printf(“%c”, name[i] );
   }
  return 0;
}
    Bangladesh  

% এখানে লুপ ব্যবহার করে array  এর মধ্যে অক্ষর রেখে তা আবার প্রিন্ট করা হয়েছে। এই কাজটা আমরা আরো সহজে করতে পারি।

# মামা, সহজে করা গেলে, কঠিন করে দেখালে কেন ??

% দেখালাম, কারন যেন এই স্ট্রিং কিভাবে কাজ করে তা বুঝতে পারিস। এখন দেখ আরো কত ভাবে স্ট্রিং এ তথ্য রাখা যায়।

char c[ ] = “abcd”;
char c[50] = “abcd”;
char c[ ] = {‘a’, ‘b’, ‘c’, ‘d’, ‘\0’};
char c[5] = {‘a’, ‘b’, ‘c’, ‘d’, ‘\0’};

* মামা, শেষের এটা কি ? আগে তো কোথাও দেখি নাই ।

% এটা ‘\0’ হল নাল স্ট্রিং (null  String) । আমরা যেমন লাইনের শেষে দাড়ি দেই, ঠিক তেমনি এটা String  এর শেষে থাকে। আমরা যখন লুপ ছাড়া স্ট্রিং প্রিন্ট করি তখন এই “নাল স্ট্রিং” ই সাহায্য করে। কারণ, আমরা যদি %c এর পরিবর্তে %s ব্যবহার করি তাহলে  আমাদের কাজ কত সহজ হয়ে যায়। তখন লুপ ব্যবহার করতে হয় না, আর প্রিন্ট করার সময় যতক্ষণ  “নাল স্ট্রিং” না পায় ততক্ষণ প্রিন্ট করতে থাকে।

প্রোগ্রাম ৭.১.১

 প্রোগ্রামপ্রোগ্রামের আউটপুট








#include <stdio.h>
int main()
{
 char name[20];
 printf(“Enter name: “);
 scanf(“%s”, name);
 printf(“Name is %s.”, name);
 return 0;
}
Enter your name: Bangladesh
Name is Bangladesh  

# আচ্ছা আমরা যদি ইচ্ছা করে এই নাল স্ট্রিং দেই তাহলে কি হবে ??

% দিয়ে দেখি কি হয়।

প্রোগ্রাম ৭.২

 প্রোগ্রামপ্রোগ্রামের আউটপুট








#include <stdio.h>
int main()
{
 char name[20]= “Bnagladesh”;
 printf(“Name is: %s.”, name);
 name[2]= ‘\0’;
 printf(“\nAfter change: %s”, name);
 return 0;
}
Name: Bangladesh  
After change: Ba  

* এখন বুঝতে পেরেছি।

% আচ্ছা আমরা যদি একটি স্ট্রিংএ কতগুলো অক্ষর আছে তা বের করতে চাই তাহলে কিভাবে করব?

# খুব সহজ, কম্পিউটারের মেমরীতে দেখে বলে দিব।

* আরে না, একটু আগেই তো মামা বলল, স্ট্রিং এর শেষে ‘\0’ থাকে, তাহলে যতক্ষণ এটা না পাব, খুঁজতে থাকব আর গুনতে থাকব।

% চমৎকার, এত সহজে বুঝে যাবি ভাবি  নাই। কোড লিখতে পারবি ?

* মনে হয় পারব, তাও তুমি করে দাও।

% হা হা, আচ্ছা দেখ- 

প্রোগ্রাম ৭.৩

প্রোগ্রামপ্রোগ্রামের আউটপুট









#include <stdio.h>
  int main()
{
  char s[100];
  int i;
  printf(“Enter a string: “);
  scanf(“%s”, s);
    for(i = 0; s[i] != ‘\0’; ++i);
  printf(“Length of string: %d”, i);
  return 0;
}
Enter a string: Bangladesh  
Length of string: 10

% এখানে ৮ নাম্বার লাইন খেয়াল করে দেখ, এই লুপের ভিতরে কোন কাজ করা হয় নাই, কিন্তু লুপটা চলবে যতক্ষণ না নাল স্ট্রিং পাবে এই লুপ চলতে থাকবে আর i এর মান বাড়তে থাকবে। আর যেহেতু অন্য কোন কাজ করবে না তাই লুপের শেষে ‘;’ দেয়া হয়েছে।

# আচ্ছা মামা, এখন যদি এখানে নাল স্ট্রিং না থাকে, তাহলে কি হবে ??

% হা হা, ভাল প্রশ্ন, তাহলে সারা জীবন সে নাল স্ট্রিং খুঁজতে থাকবে, আর এই লুপ হয়ে যাবে ইনফিনিট লুপ। আর একটা কথা আমরা কিন্তু আরো কম কোড লিখে কাজ করতে পারি।

* তাই নাকি??

% হ্যা, তাই – দেখ

প্রোগ্রাম ৭.৪

প্রোগ্রামপ্রোগ্রামের আউটপুট









১০
১১
#include <stdio.h>
#include<string.h>
  int main()
{
  char s[100];
  int i;
  printf(“Enter a string: “);
  gest(s);
  puts(s);
  return 0;
}

Enter a string:
Bangladesh
 
Length of string: 10

* তার মানে printf( )  এর পরিবর্তে puts( ) আর scanf( )  এর পরিবর্তে gets( ), তাই না?

% ঠিক তাই, তবে এগুলো খুব একটা ব্যবহার করা হয় না। আর একটা বিষয় এখানে আমাদের কিন্তু String.h  ব্যবহার করতে হয়েছে। আর এই হেডার ফাইলে আগে থেকে স্ট্রিং নিয়ে অনেক ফাংশন লিখা আছে, যেমন, strlen( ) এই ফাংশন ব্যবহার করে আমরা সহজে স্ট্রিং এর দৈর্ঘ্য বের করতে পারব। এমন আরো আছে

  • strcpy( ) – একটি স্ট্রিং থেকে আর একটি স্ট্রিং কপি করতে ব্যবহার করা হয়
  • strcat( ) – দুইটি জোড়া দিতে ব্যবহার করা হয়।

এমন আরো আছে, প্রোগ্রাম করতে করতে শিখে ফেলবি।  

* মামা, তার মানে কি আমাদের প্রোগ্রামিং শিখা শেষ?

% আমার তো তাই মনে হচ্ছে!

* আহ কি যে শান্তি লাগছে!

# আরে আপু, তুমি এই প্রোগ্রামিংকে ভয় পেতে ?? আমিই তো এইসব পারি, তুমি কিছু না বুঝলে আমার সাহায্য নিতে পার।

% আরে আমাদের শিক্ষক মামা, বলে কিরে !! আর ইমি, এতো খুশি হবার কিছু নাই। এখন প্রচুর প্রোগ্রামিং করতে হবে। সবকিছুর মধ্যে প্রোগ্রামিং খুঁজে বের করতে হবে। কাল সারাদিন বইয়ের সব সমস্যা সমাধান করে ফেল। কিছু না বুঝলে আমি তো আছিই। 

* হুম, তাহলে আমি যাই। কালকের পর তো আর তোমাকে পাব না।

# আরে আমরাও যাবো, আম্মু এখনই আমাদের খেতে ডাকবে।

আপুর মন এখন অনেক ভাল, রাতে খাবার টেবিলে অনেক গল্প করল, আম্মু ও অনেক খুশি। আর একদিন পরই আব্বু আসবে, তাই আম্মু একটু ব্যস্ত সময় পার করছে। আমাদের হাতে আর মাত্র একদিন সময় আছে। আম্মু আমাদের সবাইকে ছোট ছোট কিছু কাজ ভাগ করে দিল, যেমন নিজেদের ঘর গুছিয়ে রাখা, স্কুলের সব বাড়ির কাজ শেষ করে রাখা, বাসার জন্য কিছু কিনতে হবে কিনা তা খুঁজে বের করা ইত্যাদি। খাবার পর একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার মামার ঘরে চলে গেলাম।

# আসতে পারি ?

% আয়, সারাদিন এত কিছুর পর এখনও ক্লান্ত লাগছে না ??

# আরে মামা, তোমাকে তো আর সব সময় পাই না। তাই চলে আসলাম আর কি। আর কাল কিভাবে কি করব তার পরিকল্পনাও তো করা দরকার, তাই চলে আসলাম।

এরপর মামা তার ম্যাপ দেখে-

% ৩ টায় যেতে বলেছে, তাহলে আমরা ২ টার দিকেই বের হয়ে যাব। আগে আগে চলে যাব, যেভাবে সে ডেকেছে নিশ্চয়ই কোন ঝামেলা আছে।

# আমারও তাই মনে হচ্ছে। তাহলে আমরা কোথায় থাকব?

% জাদুঘরের একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখব, ৩ টা পর্যন্ত, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ৩ টায় জাদুঘরের সামনে চলে যাব।

# আচ্ছা, আমার কেমন যেন ভয় করছে!

% আরে ভয়ের কি আছে? পরে দেখবি কিছু হয়নি, তুহিন এমনি এসব করেছে।

#কি জানি কি? আচ্ছা মামা, তুমি হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে এন্টারটিকা চলে গেলে, ঘটনা কি?

% আরে তেমন কোন ঘটনা নেই, হঠাৎ অল্প সময়ে যেতে হয়েছে তাই কাউকে কিছু বলার সময় পাই নাই, আর কাজ শেষ করেই তো তোর কাছে চলে আসলাম । 

# কিন্তু কেন গেলে সেটাই তো বললে না।

% আসলে কাউকেই বলা হয়নি, আমাদের এই পৃথিবী ভালো নেই। উন্নত দেশগুলো গত ১০০ বছরে পৃথিবীর বাইরে অন্য কোন বসবাস যোগ্য গ্রহ খোঁজার জন্য যত টাকা খরচ করেছে তার অর্ধেকও যদি এই পৃথিবীর জন্য করত তা হলে আমাদেরকে আর এসব দেখতে হত না ।

# মানে কি, বুঝলাম না, পৃথিবীর কি হয়েছে?

% আগের মত আর নাই আমাদের এই গ্রহটি, এখন সব কিছুই কৃত্রিম, আমরা যা খাই, যে অক্সিজেন গ্রহন করি এর সবই। আর কত দিন এভাবে টিকে থাকা যাবে তা আমরা জানি না। আমরা একদল বিজ্ঞানী এই পৃথিবীকে আবার বসবাস যোগ্য করার লক্ষ্যে কাজ করছি। আমাদের এই প্রজেক্টের নাম “OneEarth”। তবে এখনও এটা গোপন প্রজেক্ট, কারণ অনেকেই চায় না এই ধরনের কাজ হোক। তারা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে চায়।  আর তাদের কথা অনুযায়ী তারা শুধু মাত্র দশ হাজার মানুষ বসবাসের ব্যবস্থা করতে পারবে, সেই লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বাকি ১০ বিলিয়ন মানুষের কি হবে তা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নাই। তাই আমরা এখন আমাদের কথা ভাবতে শুরু করেছি। আমাদের সাথে অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী যোগ দিচ্ছে। আর তোকে বলে রাখি, তোর আব্বু আমাদের সাথে যোগ দিবে, তাই উনি দেশে চলে আসছে। উনি একজন বড় মাপের জীব বিজ্ঞানী, আমাদের অনেক সাহায্য করতে পারবেন। এটা কিন্তু কাউকে বলা যাবে না। কেন বলা যাবে না সেটা কি বুঝেছিস ?

# মামা এত কিছু হচ্ছে আর আমি জানি না। আমি কাউকে বলব না, বললে দুষ্ট লোকগুলো তোমাদের ক্ষতি করতে পারে। কারন, এই পৃথিবী যদি বেঁচে থাকে তাহলে তাদের কাছে কেউ যাবে না।

% ঠিক তাই। কিন্তু আমরা তো তা হতে দিতে পারি না। আমার কিন্তু তোর সাহায্য লাগবে।

# মামা, তুমি কোন চিন্তা করো না, আমি আছি তোমার সাথে। তোমরা এখন কি নিয়ে কাজ করছো?

% খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমাদের প্রয়োজন, পানি, মাটি আর অক্সিজেন। আমরা এখন অনেক কিছুই-

–  আমরা সবাই জানি বরফ গলছে। এখন কি অবস্থা, সেটা দেখার জন্যই এন্টারটিকা গিয়েছিলাম।   এমনি সমুদ্রের পানি বাড়ছে, আবার নদী পথে ও সমুদ্রে পানি যাচ্ছে। আবার সমুদ্রের পানি যদি বেড়ে যায় তাহলে নদী দিয়ে উল্টো লবণাক্ত পানি প্রবেশ করবে। তখন আমাদের মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমরা ভাবছি নদীর পানিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিনা, যেন তা আমরা জমাতে পারি এবং তা সব সময় সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উপরে থাকবে। অনেক কঠিন কাজ, আমাদের অনেক নদী, কিন্তু আমাদের এমন একটা উপায় বের করতে হবে।

          – একই সাথে আমাদের মাটির উপরি ভাগের যে পানিটুকু আছে তাও অনেক দূষিত। অন্য দিকে মাটির নিচের পানির স্তর ও কমে যাচ্ছে। আর এর ফলে মাটি তার উর্বরতা হারাচ্ছে। মরুভুমির আয়তন দিন দিন বাড়ছে। এখন আমাদের এমন একটা উপায় বের করতে যেন আমরা উপরিভাগের পানি পরিষ্কার করতে পারি একই সাথে মাটির নিচের পানির পরিমানও ঠিক থাকে। আমাদের প্রচুর পানি আছে, কিন্তু তা লবনাক্ত আমরা যদি কোনভাবে এই পানি ব্যবহার করতে পারি, তাহলে আমাদের পানি নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। আমরা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছি। যেখানে, সমুদ্রের পানি থেকে বাষ্প আকারে বিশুদ্ধ পানি মেঘ হয়ে যাবে। এরপর আমরা, এই মেঘ কে নিয়ন্ত্র করে নির্দিষ্ট এলাকায় বৃষ্টিপাত ঘটাবো। এভাবে আমরা সমুদ্রের পানিকে আবার ব্যবহার যোগ্য করতে পারব, মাটি আবার তার প্রাণ ফিরে পাবে, একই সাথে সমুদ্রের পানিও কমতে থাকবে।

          – এভাবে মরু এলাকা কমে আসলে আমরা সেখানে নির্দিষ্ট প্রজাতির গাছ লাগাব। যেসব গাছ পরিবেশের জন্য ভাল, আর আমাদের অক্সিজেন দেয়। তবে আমরা চাই না এই পৃথিবী থেকে কোণ কিছু হারিয়ে যাক, সেটা আমাদের উপকারে আসুক কিংবা না আসুক।

          – আমরা কৃত্রিম খাবার থেকে আবার প্রাকৃতিক খাবারে ফিরে আসব। আমরা আধুনিক ব্যবস্থায় কয়েক তলা বিশিষ্ট খামার তৈরি করব। যেখানে অল্প জায়গায় আমরা অনেক কিছু চাষ করতে পারব।

          – আমাদের এই আধুনিক জীবন ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ অপরিহার্য। আমরা একমাত্র নবায়নযোগ্য শক্তি ছাড়া অন্য সব উপায় বর্জন করব। সমুদ্রের ঢেউ, সূর্যের আলো, বাতাস থেকে যদি আমরা সঠিক উপায়ে বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারি তাহলে আমাদের আর বিদ্যুৎ নিয়ে ভাবতে হবে না।

          – আমরা যেসব বর্জ্য তৈরি করছি, সেসব কিভাবে আবার ব্যবহার করা যায় অথবা আবার কিভাবে প্রকৃতিতে মিশে যেতে পারে তা নিয়েও আমরা কাজ করছি।

এমন অনেক প্রজেক্ট আছে আমাদের।

# ওয়াও। আমি তো এসব নিয়ে কখনও ভাবি নাই। কত কিছু হচ্ছে আমাদের চারপাশে। আচ্ছা মামা তুমি তুহিনের সাথে দেখা করতে চাও কেন?

% আমার মনে হচ্ছে সে আমাদের কাজে আসতে পারে। দেখা যাক-

# দেখা কর, কিন্তু মোবাইল সাবধান!

% হা হা, মনে আছে আমার।

# আর আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এখনও আমাকে দাও নাই আর রিপুতে তো অনেক পয়েন্ট জমা হয়েছে আমাদের ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, মনে আছে ?

% আরে মনে আছে আমার, সব উত্তর পেয়ে যাবি আর ঘুরতেও নিয়ে যাব। এখন অনেক রাত হয়েছে, ঘুমাতে যা। কাল আবার অনেক কাজ করতে হবে।

রবিবার

নাস্তার টেবিলে সবার সাথে দেখা। আম্মু আমাদের কার কি কাজ আবার সবাইকে মনে করিয়ে দিল। সকাল থেকেই দেখছি আপু আর মামা প্রোগ্রামিং এর নানা বিষয় নিয়ে কথা বলছে। আমি আর তাদেরকে বিরক্ত করলাম না। দুপুর পর্যন্ত কেটে গেল তুহিনের কথা ভাবতে ভাবতে। দুপুরে খাবার টেবিলে মামা আমাকে ২ টার সময় মামার ঘরে যেতে বলল

% আয় আয়, তোর জন্যই অপেক্ষা করছি। তাড়াতাড়ি বের হয়ে যেতে হবে। বেশি সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না।

# মামা, আমিও তাই ভাবছি, আম্মু কে তো বলা হয় নি।

% আমি বলেছি, চল এখন বের হই।

# আমরা কিভাবে যাব? বাসে নাকি অটোকারে?

% বাসেই যাব, যদিও নেমে একটু হাঁটতে হবে, তারপরও বাসই ভালো।

# আমি কি মোবাইলে টিকেট কেটে রাখব??

% হুম রাখতে পারিস, তবে আগে দেখ পরের বাসে আসন খালি আছে কিনা, তা না হলে আবার দাঁড়িয়ে যেতে হবে।

# আচ্ছা দেখছি। মামা, বাসের অর্ধেকই খালি, আমি টিকেট কেটে ফেললাম।

আমরা হাঁটছি আর কথা বলছি। ৩/৪ মিনিটের মধ্যে আমরা বাস স্টপে চলে আসলাম। ম্যাপে দেখাচ্ছে বাস আসতে আরো ১ মিনিট লাগবে। আর যাদুঘরে যেতে লাগবে আরো ২০ মিনিটের মত। তার মানে ২ টা ৩৫ এর দিকে আমরা জাদুঘরের সামনে থাকব।

# মামা, আমরা তো মনে হয় অনেক আগে চলে যাব।

% আরে না, কাজ আছে। একটু আগেই যেতে হবে।

# আচ্ছা তুমি যা ভালো মনে কর।

এরপর আমরা বাসে বসে  কিভাবে কি করব তা আলোচনা করতে করতে পৌঁছে গেলাম জাদুঘরের সামনে। তবে আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে থাকা যাবে না। আমরা একটু দূরে গিয়ে তুহিনের জন্য অপেক্ষা করব। আমরা আশেপাশে হাটাহাটি করতে করতে ৩ টা বেজে গেল।

# মামা, চল।

% কোথায়?

# গেইটের সামনে, তুহিন আমাদের না পেয়ে আবার চলে যাবে

% আরে না, আগে দেখ সব ঠিক আছে কিনা, আমরা আবার কোন বিপদে পরে যাই নাকি!

# আরে না মামা, আমার তো সব ঠিকই মনে হচ্ছে।

% দেখ ভালো করে, তুহিনকে কোথাও দেখা যায় কিনা…

# না কোথাও তো দেখছি না, ফোন করব?

% না ফোন করার দরকার নাই, এক কাজ করি চল আমরা গেইটের সামনে দিয়ে হেঁটে আসি। সেও যদি আমাদের মত দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে তাহলে আমাদের আর দেখা হবে না।

# ঠিক বলেছ মামা, চল, হেঁটে আমরা আবার এখানে চলে আসব।

এরপর মামা আর আমি যেই হাঁটতে শুরু করলাম, অমনি আমাদের সামনে তুহিন এসে হাজির। কিন্তু দেখে চেনার উপায় নেই।

তুঃ এই যে মামা, আমি, এই দিকে চলে আস।

% আরে, তুহিন, তোকে তো চিনাই যাচ্ছে না। কোথায় যাব?

তুঃ আমার সাথে আসো, আমরা পাশের রেস্টুরেন্টে বসব। তারা আমার পরিচিত।

কথা বলতে বলতে তুহিন আমাদেরকে মূহুর্তের মধ্যে পাশের রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল।

তুঃ মামা, তারা খুব ভালো চা বানায়, চা দিতে বলি?

# চা পরে দে, আগে বল তোর দেরী হল কেন??

তুঃ কোথায়, আমি অনেক আগেই এসেছি, তোদেরই তো দেরী !

# মানে?!

% হা হা হা, আমি বুঝতে পেরেছি, যা ভেবেছিলাম তাই- আমরা যেমন দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম, তুহিনও তাই করছিল তাই না ?

তুঃ ঠিক তাই, কিভাবে বুঝলে?? কোন উপায় নাই মামা, অনেক বিপদে আছি। যখন ইমুর কাছে শুনলাম তুমি এসেছ মনে মনে একটু সাহস পেলাম। তাই তোমার সাথে দেখা করতে চলে আসলাম ।

% সর্বনাশ, কথা শুনে তো মনে হচ্ছে তুই অনেক বিপদে আছিস, ঘটনা কি খুলে বল তো-

# আরে মামা, কিসের বিপদ, মনে হয় সে এবার তার নিজেরই কিছু একটা নষ্ট করে ফেলেছে, হি হি …

% আরে তুই চুপ কর, আগে শুনতে দে-

তুঃ মামা, অনেক বড় বিপদ। তুমি তো জান আমি রোবট মানে আইওটি (IOT) ইত্যাদি নিয়ে কাজ করি।

% হুম, তারপর-

তুঃ মামা, আমি এবার আমাদের বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহন করার জন্য এমন একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছিলাম, যা দেখে বিচারকরা আমাকে চোখ বন্ধ করে প্রথম পুরুষ্কার দিয়ে দিত।

% বাহ, বেশ!

তুঃ আরে রাখ তোমার বেশ, বেশ। এখন তো আমি এই প্রজেক্ট নিয়েই বিপদে আছি।

# মামা, কি বলেছিলাম আমি? এবার হল তো!!

% আরে শুনতে দে, তুহিন কি বিপদ?? কি ছিল তোমার প্রোজেক্ট? এখন কি কাজ করছে না?

তুঃ মামা, কাজ করছে। বিপদ অন্য কারণে। আমি যন্ত্র তৈরি করছি তা দিয়ে মরু এলাকার বালিকেও মাটিতে পরিণত করা যাবে। দূর থেকে নিয়ন্ত্রণও করা যাবে। যেভাবে আমাদের মাটির নিচের পানির স্তর নিচে চলে যাচ্ছে আর মরু এলাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এই যন্ত্র এখন আমাদের খুবই প্রয়োজন।

% আরে মামা, আমার যে কি ভালো লাগছে, ইমু আমি তোকে বলেছিলাম না তুহিনের সাথে দেখা করতে চাই। আমি তার কাছ থেকে এমন কিছুই আশা করেছিলাম। তুহিন দারুন কাজ করেছ।

তুঃ মামা, এখনও তো আমার বিপদের কথা বলা হয়নি ।

% ও আচ্ছা তাই তো, বল এখন তোমার কি সমস্যা, মামা থাকতে তোমার কোন ভয় নেই।

তুঃ জানি আমি, ইমুর কাছে তোমার কথা অনেক শুনেছি। মামা, বিপদ হল, আমাদের স্কুলের রানা স্যার আমার এই যন্ত্রের কথা SNS (National Society of Scientist) কে জানিয়েছে।

% সর্বনাশ!!

# কি হল মামা??

% আরে তোকে বলেছিলাম না, বড় বড় বিজ্ঞানীরা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে চায়, তারা এখন মঙ্গলে থাকার জন্য গবেষণা করছে। আর এই যন্ত্রের কথা শুনলে তো তারা এটা আর আমাদের কাছে থাকতে দিবে না।

তুঃ মামা, ঠিক তাই, তবে এত কিছু আমি আগে জানতাম না, তাদের একজন আমার সাথে দেখা করে বলেছে এটা তাদের অনেক পছন্দ হয়েছে, তারা আমাকে অনেক টাকা পুরষ্কার দিবে, এটা যেন তাদেরকে আমি দিয়ে দেই। তারা এটা মঙ্গলে পাঠাবে।

# ওয়াও! তাহলে তো অনেক ভালো, পুরষ্কারের সাথে আবার টাকা।

তুঃ তোর মাথা!

% আরে ইমু,তুহিনকে বলতে দে।

তুঃ মামা, এতটুকু হলে তো ভালোই ছিল। আমি পরে আবার বানাতে পারতাম। কিন্তু মামা ওরা এই যন্ত্রের পেটেন্ট চায়।

% হুম, তাহলে তো বিপদই ।

# মামা, পেটেন্ট কি??

% পেটেন্ট হল, সরকার কর্তৃক কজন উদ্ভাবককে এক ধরনের মালিকানা প্রধান, যে অধিকার বলে অন্য কেউ তার অনুমতি ছাড়া সেটা তৈরি, ব্যবহার বা বিক্রয় করতে পারে না।

# হায় হায়, তার মানে তুহিন চাইলেও আর সেটা বানাতে পারবে না?

% না পারবে না, যদি বানায় তাহলে তাকে অনেক আইনী ঝামেলা পোহাতে হবে।

# বিশাল বিপদ, এমন আবিষ্কার করে লাভ কি? এজন্যই আমি কিছু বানাই না।

% থাক তোকে আর কিছু বানাতে হবে না। তুহিন, তোর যন্ত্রের কোন নাম নেই??

তুঃ আছে মামা, যেহেতু মাটি নিয়ে কাজ তাই নাম দিয়েছি “মৃত্তিকা”

% একটু কঠিন কিন্তু সুন্দর নাম। এখন কি করবি? আর এই জন্যই লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করেছিস?

তুঃ মামা, কি আর বলব, তারা আমার পিছনে লেগে আছে। আমি কি করি কার সাথে দেখা করি সব চোখে চোখে রাখে। মৃত্তিকাকে তারা কোন ভাবে হাত ছাড়া করতে চায় না।

% হুম বুঝেছি। তুই কি চাস?

তুঃ মাম, আমি চাই মৃত্তিকা এই পৃথিবীর জন্য কাজে লাগুক। মঙ্গলের মঙ্গল দিয়ে আমার কোন লাভ হবে না ।

% হুম বুঝেছি।

তুঃ কি করব মামা, আমাকে বাঁচাও, আমার মৃত্তিকাকে বাঁচাও।

# তোর কথা শুনে তো মনে হচ্ছে মৃত্তিকা তোর ইয়ে হয়!

তুঃ শুধু ইয়ে না, মৃত্তিকা আমার সব। মৃত্তিকা বাঁচলে আমাদের এই পৃথিবীকেও বাঁচানো যাবে।

% হুম ঠিক বলেছিস। আচ্ছা তোর এই যন্ত্র কি তারা দেখেছে?

তুঃ না, দেখতে চেয়েছে। আমি দেখাইনি। যদি নিয়ে যায় তাই।

% বেশ করেছিস। এক কাজ কর, নষ্ট করে ফেল!

তুঃ কি বল মামা!!

% হুম ঠিকই বলছি। নষ্ট করে ওদের দেখা, যখন দেখবে আর কাজ করে না এরপর আর তোকে বিরক্ত করবেনা।

# হা হা হা, তাই তো তারা তো আর নষ্ট যন্ত্র তোর থেকে কিনবে না ।

তুঃ কিন্তু মামা, আমার মৃত্তিকার কি হবে?? এই পৃথিবীর কি হবে??

% তুই বাঁচাবি, আবার বানাবি, কিন্তু এখানে না, আমাদের বিজ্ঞানাঘারে।

তুঃ বাঁচালে, কিন্তু মামা, তোমাদের বিজ্ঞানাঘার মানে বুঝলাম না।

% মানে হল, আমরা এক দল ছোট-খাট বিজ্ঞনীরা এই পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য কাজ করছি। তোর মত অনেকেই আমাদের সাথে যুক্ত হচ্ছে। আমার মনে হয় তোর এই আবিষ্কার আমাদের সবাইকে সামনে এগিয়ে যাবার শক্তি যোগাবে।

তুঃ আচ্ছা মামা, আমি আছি তোমাদের সাথে। কখন কি করতে হবে আমাকে শুধু বলবে। আর বাসায় গিয়েই আমি মৃত্তিকাকে কয়েকদিনের জন্য ছুটি দিয়ে দিব। এরপর দেখি ঐ দুষ্টলোকেরা কি করে ।

% আচ্ছা তোর কাছে মৃত্তিকার কোন ছবি আছে?

তুঃ আছে মামা, এই নাও তোমার মোবাইলে দিচ্ছি।

# মামা, তোমার মোবাইল সাবধান…

আমার কথা শুনে সবাই হেসে দিল। আমরা প্রায় ১ ঘন্টার মত গল্প করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। অনেক দিন পর কাল আব্বুর সাথে দেখা হবে  ।

আরো গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published.