ডিজিটাল কেনাকাটা – ৬

আসতে আসতে মামা আমাকে গত ১০ বছরের অনেক গল্প বলল। এই মেট্রোরেল আর পাতাল রেল তৈরি করার সময় নাকি ঢাকা শহরের খুব বাজে অবস্থা ছিল। এই যুগের আমরা সবাই খুব ভাগ্যবান। আমরা সব সুবিধা ভোগ করছি। ১০ মিনিটে প্রায় ৩০% রাস্তা চলে এসেছি। মনে হয় ৩০ মিনিটেই পৌঁছে যাব আজ। হক মামা মনের আনন্দে গান গাইছে আর রিক্সা চালাচ্ছে। খুব অদ্ভুত ব্যাপার। রাস্তার অনেকই ঘুরে ঘুরে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু ব্যপারটা আমার ভালো লাগছে।

হঠাৎ রিক্সার পিছনের বামপাশের  চাকাটা বিকট শব্দে ফেটে, সব হাওয়া বের হয়ে গেল। আমার তো মাথায় বারি। আমি আর মামা রিক্সা থেকে নেমে পড়লাম। হক মামা রাস্তার পাশের একটু দূরে একটা গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা ছিল, সেখানে নিয়ে রিক্সা রাখল।   

আমি আর মামা তো চিন্তায় শেষ, এখন কি হবে? এ জায়গা থেকে তো মেট্রোতেও উঠা যাবে না । আর এখন অফিসের সময়। অটোকার বেশি ভাড়া নিবে। আবার তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে। আজ তো শনিবার না, তাহলে এমন হচ্ছে কেন ?

হক মামার কাছে গিয়ে দেখলাম উনি কি যেনো করছে। দেখি উনি ছবি তুলে কাকে যেন পাঠালো আর ফোনে আমাদের লোকেশনটা দিয়ে তাড়াতাড়ি আসার জন্য বলল। আমি হক মামাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ঘটনা কি মামা? এখন আমাদের কি হবে?

রিঃ  চাচা চিন্তা কইরো না, ১০ মিনিটের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার ইন্সুরেন্স করা আছে “অটোকেয়ার” [1] এ । তাদের লোকজন এসে ঠিক করে দিয়ে যাবে। 

# তারা আসতে আসতে আপনি একটু চেষ্টা করেন।

রিঃ না চাচা, আমি হাত দিলে  ইন্সুরেন্সের টাকা পাব না।

তিনটি বিষয় আমার মাথায় ঢুকছে না।

১। হক মামা আমাকে চাচা আর রাহুল মামাকে ভাতিজা বলল কেন ?

২। চাকা ফাটলে মানুষ টাকা পায় কিভাবে?

৩। চাকা ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকার পরও আমরা কেন হওয়া ছাড়া চাকা ব্যবহার করি না ?

কয়েক মিনিট চিন্তা ভাবনা করার পর কোন উপায় দেখতে না পেরে রাহুল মামার সাথে আলাপ করলাম। উনি আমার কথা শুনে প্রথমে গম্ভীর হয়ে আমার দিকে তাকালেন আর একটা হাসি দিলেন।

% প্রথম টার উত্তর আমার জানা নেই। দ্বিতীয়টা জানি তবে হক ভাইয়ের  মামার কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে হবে। আর শেষের টা হল খুবই মজার। তাহলে আমরা শেষ থেকেই শুরু করি।

# ঠিক আছে, তবে এই তিনটার উত্তর না জানতে পারলে আজ রাতে আমার ঘুম হবে না।

% হুম, দেখা যাক কি করা যায়। তুই সাঁতার পারিস? 

# হ্যাঁ মামা। খুব সোজা, প্রথম প্রথম ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু লাইফ জ্যাকেট পরে কয়েকদিন পানিতে সাঁতার কাটার পর ভয় কেটে গেছে।

% তো এই লাইফ জ্যাকেট কিসের জন্য?

# আরে মামা তুমি জানো না ?? লাইফ জ্যাকেট পরলে পানিতে ভেসে থাকা যায়। নিজেকে অনেক হালকা হালকা মনে হয়, তখন সহজে সাঁতার কাটা যায়।

% কেন হালকা মনে হয় ?

# কি যে বল মামা! লাইফ জ্যাকেটের ভিতরে বাতাস থাকে। তবে শুনেছি অন্যরকম নাকি আছে। আমারটা বাতাসের ছিল। বাতাস যেহেতু পানি থেকে হালকা তাই এটা আমাকে ডুবতে দেয় না। খুব সহজ।

% এবার বল, তোদের বাসার চায়ের ফ্লাক্স কিভাবে কাজ করে ?

# মামা কি শুরু করেছো? কোথায় আমার প্রশ্নের উত্তর দিবে তা না। বরং আমাকে প্রশ্ন করা শুরু করে দিয়েছো। মনে হচ্ছে তুমি আমার পরীক্ষা নিচ্ছো।

% এতো বকবক না করে, জানলে উত্তর দে।

# জানি তো। ভিতরে কাচের পাত্র আছে। আর বাইরে ধাতব পাত্র। এই দুটোর মাঝে আছে বাতাস। বাতাস যেহেতু তাপ অপরিবাহী তাই ভিতরের তাপ বাইরে আসতে পারে না । তাই চা গরম থাকে।

% অনেক কিছু জানিস দেখি। ফ্রিকশন বা ঘর্ষণ থেকে তো তাপ হয় তাই না ?

# তাই তো জানি মামা, আদিম মানুষ এইসব করে ঝামেলা শুরু করে গেছে। আর তা না হলে আমি আর তুমি এখন সুন্দরবন না হলে বান্দরবন থাকতাম।

% হুম, তাহলে তো চাকায় আগুন লেগে যাবার কথা, গাড়ীর চাকার ঘর্ষণ কমালে ভালো হয় না?

# মামা কি হল তোমার??? ঘর্ষণ না থাকলে থামাবে কিভাবে? গাড়ি তো চলতেই থাকবে!

আমার কথা শুনে মামা বুঝে গেছে, মাথা গরম হয়ে গেছে আমার। তাই হয়তো আর প্রশ্ন করলো না। তা না হলে যা শুরু করেছিল আজ।

% শোন, অনেক কিছু জানিস। কিন্তু রিক্সার চাকায় কেন হাওয়া দেওয়া হয় সেটা জানিস না!

# মামা, তুমি জানো নাকি সেটা বল!

% তুই যা যা বললি সব একসাথে কর, তাহলেই উত্তর পেয়ে যাবি?

কি সাংঘাতিক! মামা কিছুই বলল না, আমিই নাকি আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছি!

# কিভাবে মামা? আমি আবার কখন চাকার হাওয়ার কথা বললাম।

% বলিস নি, কিন্তু কি কি বলেছিস, ভেবে দেখ।

# হুম, অদ্ভুত। ঘর্ষণের ফলে তাপ উৎপন্ন হয়। বাতাস তাপ অপরিবাহী। লাইফ জ্যাকেটের বাতাসের কারণে আমাকে হালকা মনে হয়েছে। মামা তাহলে তো, গাড়ীর চাকাতে হাওয়া দিলে গাড়িও হালকা মনে হবে। আর গাড়ী যত হালকা হবে রাস্তার সাথে ঘর্ষণও ততো কম হবে, তাপও কম উৎপন্ন হবে। এর ফলে কম তেলে অনেক দূর যাওয়া যাবে।

% সবই জানিস তারপরও খালি আমাকে জ্বালাস। তবে একটা বিষয় বাদ পড়েছে। সেটা হলো হাওয়া ছাড়াও কিন্তু চাকা হয়। স্পঞ্জের বা লিকুইডের, এগুলার অনেক দাম। আরো একটা বিষয় হল চাকাতে হাওয়া আছে বলেই কিন্তু আমরা এবড়ো থেবড়ো রাস্তায় কম ঝাকি খাই। তা নাহলে কিন্তু আমাদের অবস্থা অনেক খারাপ হত।

আমরা কথা বলতে বলতে অটোকেয়ারের লোকজন চলে এসেছে। তারা কিছু ছবি তুললো এরপর একটা ডিজিটাল ফর্ম পূরণ করে আমাদের সাইন নিল।  হক মামা অনেক খুশি কারণ, মামা ক্ষতিপূরনের ২ হাজার টাকা পাবে, আর চাকাটাও অটোকেয়ারের লোকজন ফ্রী তে ঠিক করে দিবে।

তিন নম্বর প্রশ্নের উত্তর তো পেলাম, কিন্তু প্রথম  দুটোই বাকি। মামাকে আবার প্রথম দুটো প্রশ্নের কথা মনে করিয়ে দিলাম।

 # মামা, চাকার ব্যাপার তো বুঝলাম। কিন্তু আরো দুটো বাকি।

 % এই দুইটার উত্তর তোকেই বের করতে হবে ।

বলেই মামা একটা ভিলেন মার্কা হাসি দিলেন। যাইহোক, মামা যেহেতু একবার না করছে, এখান থেকে খুব সহজে উত্তর বের করা যাবে না। তাই সময় নষ্ট না করে হক মামার কাছে চলে গেলাম। আর এমনিতেই চাকার উত্তরটাও আমি বের করেছি। মামা শুধু শুধু এতগুলো প্রশ্ন করে আমার মাথার ১২ টা বাজিয়েছে।

# হক মামা, আর কতক্ষণ লাগবে ? দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।

রিঃ বাজান আর বেশি না, ২ মিনিট। ৫ টার মধ্যে আমরা রামপুরা থাকবো ইনশা-আল্লাহ।

যাক, মনে মনে একটু শান্তি পেলাম। কিন্তু ঐ দুইটার উত্তর না পেলে তো রাতে আমার ঘুম হবে না। বাকি সব বাদ, কাজে মন দেই।

# আচ্ছা মামা, ওরা তোমাকে টাকা দিবে কেন? চাকা ফাটলে তুমি, তার মানে টাকা তো তোমার দেয়ার কথা।

রিঃ এর আগেরবার আমিই দিছিলাম। তারপর আমার বড় ছেলে এনাম বলল ইন্সুরেন্স করতে। তার দুইটা অটোকার আছে। ঐগুলোরও ইন্সুরেন্স করা। আর আমি মাঝে মাঝে শখে রিক্সা চালাই। 

# বুঝলাম, কিন্তু তাই বলে এমনি এমনি ঠিকও করে দিবে আবার টাকাও দিবে?

রিঃ কে বলছে এমনি এমনি টাকা দিবে? ইন্সুরেন্স করা আছে তাই দিয়েছে।

# ইন্সুরেন্স করলে কি হয়?

রিঃ কিছু হয় না, মাসে মাসে টাকা দিতে হয়। আমি ইন্সুরেন্স করছি ৩ বছরের জন্য প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে জমা দিতে হয়। এর মাঝে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে অটোকেয়ারের লোকজন ঠিক করে দিবে আর ২ হাজার টাকা দিবে। আর ৩ বছরে কিছু না হলে, ৩ বছর পর আমাকে ৩ হাজার টাকা দিবে। তার মানে হল আমার কোন ক্ষতি নাই, সবদিক দিয়েই লাভ!

হক মামা আমাকে ইন্সুরেন্সের সুবিধাগুলো ভালো করে বুঝিয়ে দিল। কথা বলতে বলতে আমাদের রিক্সা ঠিক হয়ে গেছে। আমরা রিক্সায় উঠে বসলাম আর হক মামা চালাতে শুরু করলো। এখন বাজে সাড়ে চারটা। আশা করি ৩০ মিনিটে বাসায় পৌঁছাতে পারবো। রিক্সায় উঠেই আমি মামাকে জানালাম দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর আমি পেয়ে গেছি। এখন বাকি একটা। যদিও প্রথম প্রশ্নের চাচা-ভাতিজার সাথে আবার বাজান যুক্ত হয়েছে। অনেক চিন্তা ভাবনা করে দেখলাম এটা হক মামাকে সরাসরি জিজ্ঞাস করা ঠিক হবে না । নিশ্চয় কোন কারন আছে, যার কারনে দুনিয়ার সবাই মামা মামা করলেও হক মামা এইটা এড়িয়ে চলে। আমার মাথায় একটা ব্যাখ্যা আছে। তবে তা এক্ষেত্রে প্রযোজ্য না।

হয়েছি কি একবার আমাদের ক্লাসের সুমন, একটা ধাঁধা দিল- 

“বাপের শালা কে কি বলে?”

আমি এমনিতেই কে, কার, কেমন আত্মীয় এসব বুঝি না। সেদিন রাতে আমি ঘুমাতে পারলাম না। বিপদে পড়লে, মামাই শেষ ভরসা। সকালে মামাকে কল দিলাম। আসলে ভিডিও কল দিলাম, যেন মামা আমার অবস্থাটা বুঝতে পারে। প্রথমে ভালোই কথা হচ্ছিল, কিন্তু ধাঁধা শুনে মামা হঠাৎ রেগে কল কেটে দিল। এরপর স্কুলে গিয়ে সুমনের কাছে আরও একদিনের সময় নিয়ে এসেছি।

স্কুল থেকে এসে আমি আর ইমি আপু ১ ঘণ্টা ম্যাথ করে বের করলাম বাপের শালা মানে হল মামা। দুনিয়ার সকল মামারাই তাহলে কারো না কারো শালা বা সম্বন্ধি!

আর এই কারনেই মনে হয় রাহুল মামা রেগে গিয়েছিল। আর যাইহোক, হক মামার সাথে এই ব্যাখ্যা যায় না। মাথায় কিছু আসছে না, তাই রাহুল মামাকে বললাম কিছু একটা বুদ্ধি দিতে। মামাও আমার সাথে একমত হল- সরাসরি জিজ্ঞাসা করাটা ঠিক হবে না। কোন ঘটনা থাকতে পারে। মামা আমাকে শান্ত করে বলল, ব্যাপারটা তিনি দেখছে। এই বলে মামা হক মামার সাথে কথা বলা শুরু করল।

# হক ভাই, আপনার দেশের বাড়ি যেন কোথায়?

এর আগে রাহুল মামা, হক মামা কে মামা বললেও এখন ভাই বলছে। এমনি হক মামা রাহুল মামা থেকে কম করে হলেও ১০ বছরের বড় হবে। যাইহোক, দেখি মামা কি সমাধান বের কর? উনাদের কথা চলছে–

রিঃ বাড়ি পদ্মার ঐ পাড়। ঢাকা থেকে যেতে বেশি সময় লাগে না। দুই ঘন্টায় যাওয়া যায়। আগে তো  একদিন লাগতো।

% হুম, ঢাকায় কি আপনি একাই থাকেন ?

রিঃ একা থাকবো কেন ? আমি, আপনার ভাবি, ছেলে আর ছেলের বউ। আমরা সবাই একসাথে উত্তরায় থাকি।

শুনে মামা মনে হয় একটু লজ্জা পেয়েছে। কারণ, মামা এখনো বিয়ে করে নাই। আর হক মামার ছেলে মামার থেকে অনেক ছোট হবে। আমি কিছু না বলে চুপ করে শুনতে থাকলাম।

% আপনারা কয় ভাইবোন ?

রিঃ কোন বোন নাই। তবে এক ভাই আছে। গ্রামে থাকে, গ্রাম তো এখন আর গ্রাম নাই তাই দেশের বাড়িতে থাকে আর কি। বাড়িতে গেলে খুব ভাল সময় কাটে। ভাইয়ের এক ছেলে আর এক মেয়ে। বড় ছেলেটা মনে হয় ক্লাস টু তে পড়ে। মেয়েটা আরও ছোট। বাড়িতে গেলে ভাতিজার সঙ্গে ভালোই সময় কাটে। চাচা-ভাতিজা মিলে অনেক ঘুরাঘুরি করি। 

হক মামার কথা শুনে রাহুল মামা আমার দিকে তাকালো, আমিও মামার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লাম যে, আমি আমার উত্তর পেয়ে গেছি।

কথা বলতে বলতে প্রায় বাসার সামনে চলে এসেছি। মামা আর হক মামা নানা বিষয় নিয়ে কথা বলছিল, আর আমি এই সুযোগে ছবি তুলছিলাম। পাঁচটার আগেই আমরা বাসার সামনে পৌঁছে গেলাম। রিক্সা থেকে নেমেই আমি হক মামাকে প্রশ্ন করলাম।

# আচ্ছা হক মামা, আমি আর মামা তোমার কি হই?

আমার প্রশ্ন শুনে হক মামা মনে হয় আকাশ থেকে পড়ল।

রিঃ কেন বাজান কি হইছে? আমি কি উল্টাপাল্টা কিছু বলছি?

মামা বুঝলো, হক মামা আমার প্রশ্ন বুঝতে পারে নাই। আর লোকটা এতই সাধাসিধে যে, মামা – চাচা দিয়ে উনার কিছু আসে যায় না ।

% আরে হক ভাই বাদ দেন। আবার কোন দিন বের হলে আপনাকে ফোন দিব।

এরপর হক মামা ভাড়া নিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেল। ভাড়া দুইশ টাকা, এই টাকা দিয়ে সারাদিন অটোকারে ঘুরতে পারতাম, কিন্তু তাতে এই রিক্সা ভ্রমন টা আর হতো না। মামা আর আমি ঠিক পাঁচটায় বাসায় ঢুকলাম। আমাদের দেখে আম্মু ঘড়ির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলো-

~ কিরে তোরা কি সারাদিন দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলি নাকি?

শুনেই সবাই হু হু করে হেসে উঠলো। আমাদের হাসি শুনে ইমি আপুও ড্রয়িং রুমে চলে আসলো।

% কিরে ইমি? কি খবর তোর? অনেকদিন হল কোন সাড়া শব্দ নাই !

 * আরে মামা কি যে বল না ? আম্মু কি আমাকে শান্তিতে রেখেছে নাকি? ডিসেম্বরে পরীক্ষা, আর এখনই আমি পড়তে পড়তে শেষ।

~ পড়তে পড়তে শেষ মানে ?? কালকেও তো চশমা লাগিয়ে ভুতের সিনেমা দেখলি।

এখন সব সিনেমা সম্পূর্ন থ্রী-ডি তৈরি হলেও পুরাতন সিনেমাগুলো চশমা পড়ে দেখতে হয়।  আগে মামারা নাকি হলে গিয়ে এই সিনেমা গুলো দেখতো। আর এখন হলে সেভেন-ডি [2] চলে। ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ। সিনেমার মাঝেখানে ঘুরে ঘুরে দেখা যায়, আবার এক জায়গায় বসেও দেখা যায়।

% আরে আপা কি শুরু করলা। এই বয়সে দেখবে না তো কবে দেখবে?

মামার সাপোর্ট পেয়ে ইমি আপু একটু স্বস্তি পেল। আর একটু হলেই একটা যুদ্ধ শুরু হয়ে যেত। আপু ভূতের সিনেমা দেখলেও আমি দেখি না । কারণ মামা বলছে, মানুষ যা দেখে তাই স্বপ্নে দেখে। একটু যোগ-বিয়োগ হতে পারে। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক নাকি নতুন কিছু তৈরি করতে পারে না। আর শুধু শুধু এইসব ভূতের সিনেমা দেখে আমি আমার শান্তির ঘুমটা নষ্ট করতে চাই না ।

~ হুম হইছে। তোর আশকারা পেয়ে পেয়ে এই দুইটার এই অবস্থা।

মনে মনে ভাবলাম আমি আবার কি করলাম? গল্প করতে করতে ৯ টা বেজে গেল, মামা আমাদের সাথে খেয়ে ১০ টার দিকে আমাদেরকে ভালোভাবে পড়াশুনা করতে বলে চলে গেল। আর যাবার আগে কানে কানে বলে গেল আমি যেন সময় মত আম্মুকে টাকাটা ফেরত দিয়ে দেই।


[1] অটোকেয়ার (কাল্পনিক), বীমা প্রতিষ্ঠান, গাড়ী নষ্ট হলে মেরামত করে দেয়।

[2] সেভেন-ডি (কাল্পনিক), সিনেমার মাঝে ঘুরে ঘুরে দেখা যায় এমন প্রযুক্তি

আরো গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published.